ভিজিয়ে রাখা এক মুঠো ছোলার সঙ্গে মধু খেলে কি হয় জানলে অবাক হবেন আপনি

ছোলায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, সোডিয়াম এবং সেলেনিয়াম। সেই সঙ্গে রয়েছে আরও বেশ কিছু উপকারি উপাদান, যা মস্তিষ্ক থেকে হার্ট, কিডনি থেকে লাং, শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। চিকিৎসকেরা প্রতিদিন, সারারাত ভিজিয়ে রাখা এক মুঠো ছোলা মধুর সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এমটা যদি করতে পারেন, তাহলে একাধিক রোগ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। সেই সঙ্গে মিলবে আরও অনেক উপকারিতা।

হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়: ছোলায় উপস্থিত ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশ করার পর একদিকে যেমন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, তেমনি অন্য়দিকে ব্লাড প্রেসারকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি: ব্রণ, পিম্পল, ডার্মাটাইটিস সহ একাধিক ত্বকের রোগ সারাতে ছোলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ছোলা খেলে যেমন উপকার পাওয়া যায়, তেমনি ছোলা গুঁড়ো করে বানানো বেসন, দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালে দারুন উপকার মেলে। বেসন এবং দুধ বা দই মিলিয়ে বানানো পেস্ট স্কাল্পে লাগালে চুল পড়াও অনেক কমে যায়। তাই যাদের খুব চুল উঠছে, তারা এই ঘরোয়া পদ্ধতিটির সাহায্য নিতেই পারেন।

হজম ক্ষমতার উন্নতি: অল্প কিছু খেলেই কি বদ-হজন হয়ে যায়? তাহলে তো ছোলাকে রোজের সঙ্গী বানানো উচিত। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শুধু হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় না, সেই সঙ্গে ডায়ারিয়া এবং কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপও কমায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। এই উপাদানটি শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বার করে দিয়ে ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ছোলা খাওয়ার অভ্য়াস করলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। আর এই খনিজটির পরিমাণ যত বাড়ে, তত সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে ধীরে ধীরে ব্লাড প্রসোর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এই কারমেই যারা অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড প্রেসারের সমস্য়ায় ভোগেন, তাদের নিয়মিত এক বাটি করে ছোলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

এনার্জির ঘাটতি কমাতে: ছোলায় উপস্থিত পটাশিয়াম ক্লান্তি দূর করে শরীরকে একেবারে চাঙ্গা করে তোলে। সেই সঙ্গে কোষেদের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির অন্দরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা কোষেদের শক্তি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে: শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে সাধারণত অ্যানিমিয়ার মতো রোগ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আর যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ। তাই এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরের অন্দরে লহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়াতে দারুন কাজে আসে। আর একবার লহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমতে শুরু করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন এক মুঠো করে ছোলা খেলে শরীরের অন্দরে শর্করার শোষণ ঠিক মতো হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে সুগার লেভেল বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, ছোলার মধ্যে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে হঠাৎ করে ব্লাড সুগার লেভেল কমে গেলেও শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব পরে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*