টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে যত ভুল ধারণা | পড়ুন বিস্তারিত ...

টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে যত ভুল ধারণা

সম্প্রতি অনেক নারী বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। একজন নারী সংসার জীবনে প্রবেশ করার পর মা হওয়াটাই তার মনের গভীরে সুপ্ত বাসনা। এ ছাড়া স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি চান তাদের বংশ রক্ষা করতে। সংসারে নতুন মেহমানের মুখ দেখার জন্য তারা অপেক্ষা করেন।

জীবনযাত্রার পরিবর্তনসহ অসংক্রামক রোগব্যাধি ও পরিবেশগত পরিবর্তনে বন্ধ্যত্বের হার বাড়ছে। সারা বিশ্বে এ হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের হার বাড়ছে এবং তা প্রায় ১২ শতাংশ। এখানে নারীর তুলনায় পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ক্রমেই বাড়ছে।তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সাধারণ চিকিৎসায় ৮০ শতাংশ বন্ধ্যত্ব নিবারণ করা সম্ভব।

বন্ধ্যত্বের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেক দম্পতি টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে থাকেন।তবে আমাদের অনেকেরই টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। টেস্ট টিউব বেবির কথা বললে অনেকে চিন্তায় পড়ে যান।

সাধারণ যেসব দম্পতির অনেক চেষ্টার পরেও সন্তান নিতে ব্যর্থ হন। তাদের প্রথামিক অবস্থায় ওষুধের মাধমে চিকিৎসা দেয়া হয়। তারপর যদি না হয় তবে তাদের জন্য আমার টেস্ট টিউবে বেবি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

বর্তমানে বাংলাদেশে এই টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে বেবি নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে নানা রকম কুসংস্কার ও ভুল ধারণা।আসুন জেনে নেই টেস্ট টিউব বেবি নিয়ে যত ভুল ধারণা।

টেস্ট টিউব বেবির জন্ম

অনেকেই মনে করেন টেস্ট টিউব বেবির জন্ম হয় টেস্ট টিউবের মধ্যে। এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। টেস্ট টিউব বেবি কৃত্রিম উপায়ে জন্ম দেওয়া কোনো শিশু নয়। টেস্ট টিউব মূলত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।

ধর্মীয় বাধা

টেস্ট টিউব বেবির জন্ম হয় মূল্যবান একটি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে। কাজেই কৃত্রিম উপায়ে এভাবে সন্তানলাভে ধর্মীয় বাধা থাকতে পারে। কিন্তু টেস্ট টিউব বেবির বিষয়টি মোটেই তা নয়। একজন স্বাভাবিক গর্ভধারিণীর জরায়ুতে বেড়ে ওঠা শিশুর জীবনপ্রণালির ও টেস্ট টিউব বেবির জীবন প্রণালি একই।

আইভিএফ

টেস্ট টিউব বেবি নেয়া হয় মূলত আইভিএফ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে আইভিএফ। এ পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু ল্যাপারেস্কোপিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত সন্তর্পণে বের করে আনা হয়। পরে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়।

এছাড়া একই পদ্ধতিতে স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। পরে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের একঝাঁক শুক্রাণু।

তারপর অসংখ্য সজীব ও অতি ক্রিয়াশীল শুক্রাণুকে ছেড়ে দেওয়া হয় নিষিক্তকরণের লক্ষ্যে রাখা ডিম্বাণুর পেট্রিডিশে। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর এই পেট্রিডিশটিকে তারপর সংরক্ষণ করা হয় মাতৃগর্ভের পরিবেশ অনুরূপ একটি ইনকিউবেটরে।

২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা

ইনকিউবেটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যায় নিষিক্তকরণের পর ভ্রূণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। ভ্রূণ সৃষ্টির পর সেটিকে একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরায়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়।

জরায়ুতে ভ্রূণ সংস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পরই তা চূড়ান্তভাবে বিকাশ লাভের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে এবং সেখান থেকেই জন্ম নেয় নবজাতক। কোনো টেস্ট টিউবে এই শিশু বেড়ে ওঠে না। সহযোগী অধ্যাপক (অবস-গাইনি), ডেলটা মেডিকেল কলেজ, মিরপুর ১, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*