পাগলীটা মা হয়েছে,পাওয়া গেল বাবার খোঁজ | পড়ুন বিস্তারিত ...

পাগলীটা মা হয়েছে,পাওয়া গেল বাবার খোঁজ

সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে ফুটপাতে সন্তান প্রসবের ঘটনায় মা-নবজাতকের প্রাণ বাঁচানো এক এসআইয়ের এগিয়ে আসার খবর আলোড়ন তোলে দেশব্যাপী। কিন্তু প্রতিবারের মত সেবারও পাগলী মা হলেও খোঁজ পাওয়া যায়নি কোন বাবার। তাইতো দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই খবরটি-‘ফের পাগলীটা মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ’ শিরোনামে প্রকাশ করে।

না, প্রতিবারের মত এই কথাটি আর সত্য হলো না। এবার পাওয়া গেল এ নবজাতকের বাবার খোঁজ। তার নাম ইসমাইল (৩৫)। তিনি পেশায় হোটেল শ্রমিক। ইসমাইল নিজেও একজন ভবঘুরে! নবজাতকের মা মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনা জানান, কয়েক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তার স্বামীর নাম ইসমাইল। তিনি হোটেলে কাজ করেন। তার ভরণপোষণ না দেয়ায় তিনি স্বামীকে ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে স্বামী ইসমাইলের দাবি, ২০০১ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে সন্তান আছে। কিন্তু বিয়ের পরে তার স্ত্রী রোজিনার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এরপর থেকে তিনি বাসায় থাকেন না। বাসার সবকিছু তছনছ করে রাস্তায় চলে আসেন। কিছু দিন আগেও নিজে হোটেল শ্রমিক হিসেবে কাজের পাশাপাশি নিজেদের জন্য নগরের ধোপার দীঘির পাড় এলাকায় বাসা নিয়েছিলেন। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনা বারবার বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এ কারণে তাদের ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেন বাড়ির মালিক।

ইসমাইল বলেন, বারবার বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় রোজিনাকে রাতবিরাতে রাস্তা থেকে খুঁজে আনতে হয়। গত তিন মাস আগে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর রোজিনাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া যায়নি। এদিকে বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বলায় নিজেও এখন স্থানীয় ল্যাঙটা ফকিরের মাজারে সন্তান নিয়ে থাকি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোজিনা ইসমাইলের স্ত্রী। কিন্তু স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে কেউ বাসা ভাড়া দেন না। এ ছাড়া রোজিনাও বাসায় না থেকে রাস্তায় চলে আসেন। ইসমাইল বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে খুঁজে নিয়ে বাসায় নিয়ে গেলেও তাকে সেখানে রাখা সম্ভব হয় না। কিছুদিন আগে রোজিনা তাদের ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে গেলে ইসমাইল তার ছেলে সন্তান নিয়ে ল্যাঙটা ফকিরের মাজারে গিয়ে ওঠেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৭ জানুয়ারি) শীতের সন্ধ্যায় ফুটপাতে নালার পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী জন্ম দেন ফুটফুটে এক শিশুর। এ ঘটনা দেখে আশপাশে মানুষ ভিড় করলেও এগিয়ে আসেননি কেউ। অথচ মায়ের নাড়িতে জড়িয়ে থাকা শিশুটি গড়াগড়ি দিচ্ছিল ফুটপাতের ধুলোয়। লোকমুখে সে খবর পেয়ে ছুটে আসেন দেওয়ানহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান।

অন্যদের মতো দর্শকের ভূমিকা না নিয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকা মা ও শিশুকে দ্রুত নিয়ে যান হাসপাতালে। সেখানে কাটা হয় নাড়ি। ফলে প্রাণে বেঁচে যায় মা ও শিশু।ফুটপাতে পড়ে থাকা মা ও শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এসআই মাসুদুর রহমান মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*