বেশি নম্বরের জন্য যেতে হবে স্যারের রুমে! | পড়ুন বিস্তারিত ...

বেশি নম্বরের জন্য যেতে হবে স্যারের রুমে!

বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরেও কোথাও ভর্তির সুযোগ পায়নি অনু (ছদ্মনাম)। দুই বোনের মধ্যে অনুই বড়। ছোট বোন পড়ে কলেজে। অনুর বাবা সরকারি চাকরি করতেন। বছর দুয়েক আগে নিয়েছেন অব্যাহতি। আর অনুর মা একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন।কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না হওয়ায় বাবার পরামর্শে একটি নামকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় অনু।নতুন পরিবেশে ভালোই চলছিলো অনুর। কিন্তু প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় ফলাফল আশানুরুপ না হওয়ায় কিছুটা হতাশ হয় অনু। এরপর আগের চাইতেও ভালো করে পড়া শুরু করে। কিন্তু তারপরেও কিছুতে কিছু হয় না। দ্বিতীয় সেমিস্টারেও দেখা যায় ভালো লেখার পরেও ফলাফল ভালো হয়নি অনুর।

অনু তার এ ধরনের ফলাফল নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ে। সে চিন্তা করে এইখানে আর পড়বেই না। বরং অন্য কোথাও ভর্তি হবে।এমতাবস্থায় একদিন অনুর সাথে পরিচয় হয় অন্তরার (ছদ্মনাম)। অন্তরা আর অনু কিছুদিনের মধ্যে বেশ ভালো বান্ধবী হয়ে যায়। অন্তরা অনুর কথা শুনে তাকে পরামর্শ দেয় সে যেন স্যারের সাথে দেখা করে, তাহলে তার ফল ভালো হবে। কারণ স্যার ভালো করে অনুকে বুঝিয়ে দিবে আর সাজেশনও দিবে কিন্তু অনু অনেকের কাছে শুনতে পারে স্যারের চরিত্র অতোটা ভালো না। তাই সারের কাছ থেকে কিছুটা দূরে দূরেই থাকতো অনু।

এরপর একদিন ক্লাসে স্যারের কথা অনুর বেশ ভালো লাগে। ওইদিন ক্লাসে স্যার বলে, ‘তোমরা তো সবাই আমার ছেলে-মেয়ের মতো। তোমাদের কোন সমস্যা হলে তো আমিই দেখব। কারো কোন সমস্যা হলে লজ্জা করা যাবে না। সোজা আমার কাছে চলে আসবে। আমি যখন তোমাদের যা সহোযোগিতা দরকার তাই করবো।’এরপর অনু অন্তরার কাছে স্যারের বেশ প্রশংসা করে। তাছাড়া অনু বাসায়ও জানায় স্যারের কথা, করে প্রশংসা।এরই মধ্যে অনু একটা জিনিস লক্ষ্য করে যে অন্তরা ততোটা ভালো ছাত্রী না হলেও বরাবরই তার ফলাফল ভালো হয়। এ বিষয়ে অনু জানতে চায় অন্তরার কাছে। অন্তরা জানায় নিয়মিতো স্যারের সাথে যোগাযোগ রাখলেই ভালো ফল করা সম্ভব। সে নিজে নিয়মিতো স্যারের সাথে যোগাযোগ করে।

এরপর অনু মাঝে মাঝে স্যারকে ফোন দেওয়া শুরু করে। তারপর গণিত পরীক্ষার আগের দিন স্যারের রুমে যায় সিট আনতে। যদিও ওইদিন অন্তরার যাওয়ার কথা ছিলো অনুর সাথে। কিন্তু অন্তরা জানায় সে অসুন্থ তাই সে যেতে পারবে না। আর তাই সবশেষ একাই যায় অনু।স্যারের রুমে যাওয়ার পর স্যার নানান বিষয়ে কথা বলে অন্তরার সাথে। এক পর্যায়ে স্যার অনুকে চায়ের কথা বলে রুম থেকে বের হয়। এরপর এসে যখন অনু অংক করায় ব্যাস্ত ছিলো তখন হঠাৎই দরজা বন্ধ করে দেয় এবং অনুর সাথে অনাকাঙ্খিত কিছু করে। অনু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এরপর তার অবস্থা এতোটাই খারাপ হয় যে অনু তার বাবাকে দেখলেও ভয় পেত!

(এই লেখাটি বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ফাঁদ অনুষ্ঠানের অবলম্বনে করা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*