নটর ডেম ছাত্রের পা বাঁধা লাশ উদ্ধার | পড়ুন বিস্তারিত ...

নটর ডেম ছাত্রের পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে নটর ডেম কলেজের এক ছাত্রের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ছাত্রের নাম ইয়োগেন হেনছি গোন সালভেজ (২২)। তিনি নটর ডেম কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। গত মঙ্গলবার রাতে কদমতলার ৯ নম্বর লেনের ৭৭/এ নম্বর বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে তাঁর রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। নতুন ভাড়া নেওয়া এই বাসায় তিনি এ দিনই উঠেছিলেন। গতকাল সকালে তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। কী কারণে এবং  কারা তাঁকে হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। পরিচয় গোপন করে নতুন ভাড়া বাসায় উঠেই খুন হন ইয়োগেন। তাঁর বাবার নাম ম্যাকলিন গোন সালভেজ। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটায়। নতুন বাসায় ওঠার আগে ইয়োগেন মামাতো বোন শ্রিপার সঙ্গে পুরান ঢাকার নারিন্দায় থাকতেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে সবুজবাগ থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, ঢাকায় আত্মীয়ের বাসা ছেড়ে এক মাস আগে ইয়োগেন নতুন বাসাটি ভাড়া নেন। ওঠেন গত মঙ্গলবার। নতুন বাসায় উঠলেও পরিবারের লোকজনকে জানাননি। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাঁর লাশের পাশে একটি অর্ধেক জুসের বোতল ও কয়েকটি খালি বোতল পাওয়া যায়। এ ছাড়া রুমে ছড়ানো অবস্থায় কেরোসিন তেল ছিল। ঘটনায় অনেক রহস্য আছে। তদন্তে তা জানা যাবে।

গতকাল দুপুরে ইয়োগেনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তে পিঠে ও পেটে ১৫টি ছুরিকাঘাতের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের ভগ্নিপতি রোমেন পিনারু কালের কণ্ঠকে বলেন, ইয়োগেন যে ওই বাসা ভাড়া নিয়েছিল তা তাঁদের জানা নেই। এর আগে সে মামাতো বোন শ্রিপার সঙ্গে পুরান ঢাকার নারিন্দায় থাকত। শিপ্রা বাসায় না থাকায় শুক্রবার গুলশানের নর্দায় বোন ডালিনের বাসায় যায় ইয়োগেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকবার রিং হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা জানতে পারেন কদমতলার একটি বাসায় ইয়োগেনের লাশ পাওয়া গেছে। সে কিছুদিন ধরে রবি কল সেন্টারে চাকরির জন্য ট্রেনিং করছিল। তাঁর কোনো শত্রু ছিল কি না জানা নেই। পুরো বিষয়টি তাঁদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাড়ির মালিক বলেন, গত মাসে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় ‘ভাড়াটিয়া ফরমে’ তিনি নাম-পরিচয় মিথ্যা লেখেন। বাসাভাড়া নেওয়ার সময় ছবি চাইলে পরে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে সবুজবাগ থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, এ ঘটনায় কারো নাম উল্লেখ না করে (অজ্ঞাতপরিচয়) একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*