মিমির কোলে আশ্রয় পেল ওরা | পড়ুন বিস্তারিত ...

মিমির কোলে আশ্রয় পেল ওরা

২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেনী সদর হাসপাতালের সিঁড়ির নিচ থেকে ঠোঁটকাটা একটি মেয়ে শিশুকে কুড়িয়ে পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের ধারনা, এক মাস বয়সী ঠোঁটকাটা শিশুটিকে রেখে পালিয়ে চলে যায় তার স্বজনরা। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল শহরের সুলতানপুর রেলওয়ে রাস্তার পাশ থেকে একটি মেয়ে নবজাতককে উদ্ধার করেন ফটো সাংবাদিক দুলাল তালুকদার। ১২ জুলাই শহরের রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকা থেকে পথচারীরা উদ্ধার করেন আরো একজন ছেলে নবজাতক শিশুকে।

সবশেষ গেল মাসের ২০ তারিখ জেলার দাগনভূঞাঁ উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয় নবজাতক মেয়ে শিশুকে। হাসপাতালের দেনা মেটাতে যে নবজাতককে তার মা বিক্রি করে দিয়েছিল মাত্র ১০ হাজার টাকায়।

এই শিশুগুলোর জন্মটাই যেন আজন্ম পাপ! তবে আবর্জনায় স্তুপের পরিবর্তে তারা খুঁজে পেয়েছে ‘মায়ের’ কোল। ফেনী জেলা প্রশাসন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দু’টি মেয়ে শিশুর স্থান হয়েছে দু’টি পরিবারে। যার একটি শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন সময় সংবাদের ফেনীর ব্যুরো প্রধান বক্তেয়ার মুন্নার পরিবার। বাকি দু’ই শিশুরু জায়গা হয়েছে এক সমাজকর্মীর কোলে।

মঞ্জিলা আক্তার মিমি। ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী মানবিক ও সামাজিক সংস্থা ‘সহায়’র প্রধান সমন্বয়ক। শুধু এই দুই শিশুর আশ্রয় নন, জেলার যেখানেই অসহায় মানুষের আহাজারি সেখানেই ছুটে যান মিমি।

ফেনী শহরের পূর্ব উকিল পাড়ায় পরিবার নিয়ে থাকেন মঞ্জিলা মিমি। ঠিকাদার বাবা আলী আজম ২০০৩ সালে মারা গেছেন। মা শাহানা আক্তার গৃহিণী। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মিমি দ্বিতীয়।

ফেনী সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স, মাস্টার্স করে ফেনী ‘ল’ কলেজে পড়ছেন আইন বিষয়ে। যেটুকু সময় পান তার পুরোটাই কাটান অসহায় মানুষদের সেবায়। স্থানীয়দের কাছে মিমির জায়গাটা আলাদা। চার পাশের অসহায় দুস্থদের নিয়ে তার ভাবনা। শহরের পিছিয়ে পড়া শিশুদের স্বাক্ষরতা বাড়ানোর জন্য রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘প্রত্যয় পাঠশালা’ নামের একটা স্কুল। এতে তাঁকে সহায়তা করেন আরো কিছু তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। মিমির বেশির ভাগ সময় কাটে এসব পথশিশু আর তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে।

কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্টের সাথে কাজ শুরু করেন মঞ্জিলা মিমি। সম্প্রতি তিনি এবং তার সংগঠন ‘সহায়’র সকল সদস্যদের নিয়ে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। হাসপাতালটি অনুকরণনীয় হয়ে উঠছে অন্যান্য জেলা

ফেনীর সিভিল সার্জন ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, মিমি এবং তার সংগঠন ‘সহায়’র সকল সদস্য মিলে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন হাসপাতালটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে। তাদের প্রচেষ্টার কারনে এ হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

ফেনী আধুনিক সদর হাসাপাতালের রোগীরা বলেন, ‘এই হাসপাতালের অসহায় রোগীদের ভরসার জায়গা মিমি। তাদের চিকিৎসা, ঔষধ এবং সেবা করে তিনি মহৎ কাজ করে যাচ্ছেন।

মঞ্জিলা মিমি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক কারণে মানুষের বিপদে ছুটে যাই। সমাজের অসহায় আনুষগুলোকে নিজের পরিবার বলে মনে কাজ করে যাচ্ছি। অসহায় মানুষের মুখে হাসিতে আনন্দ পাই। আমরা সবাই যদি নিজেদের অবস্থান থেকে এসব মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি, তাহলে সমাজ আরো সুন্দর হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*