চিৎকার করে মঞ্চে কাঁদলেন জেমস, না পেরে নেমে গেলেন মঞ্চ থেকে! (ভিডিও)

বাংলাদেশের কিংবদন্তী একজন শিল্পী তিনি। একাধারে তিনি গায়ক, গীতিকার, সুরকার, এবং উপমহাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট। তিনি আমাদের আইয়ুব বাচ্চু। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আজকের এই দিনেও তার কাছের একজন সহশিল্পী বাংলাদেশের আরেকজন কিংবদন্তী জেমস তার পাশে থাকতে পারেন নি এই সময়।

আর তাই মঞ্চে উঠে চিৎকার করে কাঁদলেন তিনি। দুচোখ বেয়ে জল পড়ছে অঝোরে। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু শোক তাকে আঁকড়ে ধরে ছিল। সহ্য করা কঠিন। জেমসের এই চেহারা কোনোদিন কেউ দেখেনি! স্টেজ ভেঙে পড়া কান্না!

বরগুনার এই কনসার্টটি সরাসরি প্রচারিত হয়েছে ‘দেশ টিভি’ তে। জেমস শুরুতেই শো টি আইয়ুব বাচ্চুকে ডেডিকেট করে, হু-হু করে কাদতে কাদতে ২-১ মিনিট গিটার বাজিয়ে, একটা গানের ২-৩ লাইন গেয়ে, আচমকা থেমে গিয়ে, ‘বন্ধুরা, আমাকে একটু ৫-১০ মিনিট সময় দাও, আমি আসছি…’ বলে নেমে গেছেন মঞ্চ থেকে।

ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

তার স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন আইয়ুব বাচ্চু। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মৃত্যুর আগে আইয়ুব বাচ্চুর পাশে ছিলেন তার সহকারী রুবেল। গেল ৮ বছর ধরে বাচ্চুর ছায়াসঙ্গী তিনি। যেখানে গিয়েছেন, সবখানেই ছায়ার মতো দেখা যেত রুবেলকে। তার হাতেই থাকতো বাচ্চুর সারাদিনের কর্মসূচি।

সকাল থেকে রাত, যার সঙ্গে মিশে থাকতেন তার না থাকার শূন্যতাকে মানতেই পারছেন না রুবেল। সকালে স্কয়ার হাসপাতালে অনবরত কান্না করেই যাচ্ছিলেন তিনি। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আমি বুঝতেই পারছি না নিজেকে কীভাবে শান্ত রাখবো।

উনি আমার অভিবাবক, উনি আমার বাবার মতো ছিলেন। কতো মানুষ স্বপ্ন দেখেছে আইয়ুব বাচ্চুকে এক নজর দেখবে বলে। আর তিনি আমাকে তার সঙ্গী করে নিয়েছিলেন। কত আদর, স্নেহ দিয়েছেন তিনি আমাকে। সেই তিনি আমার কোলেই ঢলে পড়লেন’

রুবেল আরও বলেন, ‘বাচ্চু ভাই রংপুরে শো করেছেন ১৬ তারিখ। তখন থেকেই বলছিলেন শরীরটা ভালো লাগছে না। তবে এমন খারাপ কিছু সেটা হয়তো তিনিও আন্দাজ করেননি। আজ সকালে হঠাৎ আমাকে ডাকলেন।

বললেন শরীরটা খুব খারাপ লাগছে। হাসপাতালে যাওয়া দরকার। বলতে বলতেই দেখি পড়ে যাচ্ছেন তিনি। ধরতে গেলাম আমার কোলে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরলেন। চুপচাপ। মুখে ফেনা বের হচ্ছিলো। তারপর ধরে ভাইকে নিয়ে হাসপাতাল আসি। ডাক্তাররা বলছেন, বাচ্চু ভাই বাসাতেই মারা গেছিলেন।’

প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ রুবেলের কান্না আকাশ ভারী করছিলো। তাকে সান্ত্বনা দেয়া যায় না, সান্ত্বনা দেয়ার নেইও কেউ। আইয়ুব বাচ্চুকে হারানো শোক উপস্থিত সবাইকে পাথর করে রেখেছে।

থামছেই না তার কান্না। কোনো কিছুতেই তাকে শান্ত করতে পারছেন না কেউ। দুই চোখের জলে ভিজিয়ে দিয়েছেন গাল, মুখ, বুক। বারবার বলে চলেছেন, ‌‘বুঝতেই পারলাম না এভাবে চলে যাবেন বাচ্চু ভাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*